সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুককে ভেকু গাড়িতে ঝুলিয়ে বিএনপি কর্মীরা মারধর করছে" দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তিকে একটি এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিনে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটির সঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক কিংবা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ঘটনার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং এটি ভারতের রাজ্য রাজস্থানের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে এর পূর্বসূত্র পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, "Waquar Hasan" নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ মে ২০২৫ তারিখে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, রাজস্থানে ডিজেল চুরির অভিযোগে এক ডাম্পার চালককে তেজপাল সিং উদাওয়াত নামের এক ব্যক্তি এক্সকাভেটর মেশিনে ঝুলিয়ে নির্যাতন করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২৫ মে ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত 'ফ্রি প্রেস জার্নাল' এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি ভারতের রাজস্থানের বেওয়ার জেলার রায়পুর থানা এলাকার। সেখানে তেজপাল সিং উদাওয়াত নামের এক ব্যক্তি তার গাড়িচালককে একটি জেসিবি মেশিনের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের হলেও ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত তেজপাল সিং উদাওয়াতকে গ্রেপ্তার করে। গণমাধ্যমটি তাকে একজন 'হিস্ট্রি-শিটার' বা একাধিক মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করে।
অতএব, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুককে ভেকু গাড়িতে ঝুলিয়ে বিএনপি কর্মীরা মারধর করছে, এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে এটি ভারতের রাজস্থানে সংঘটিত একটি পুরোনো নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও, যার সঙ্গে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই।