সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি দুটি ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ছবিগুলোতে কয়েকজন ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলে করে র্যালি করতে এবং পাকিস্তানের পতাকা বহন করতে দেখা যায়। এসব ছবি শেয়ার করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। কেউ দাবি করছেন, “৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ হুমকির মুখে”, আবার কেউ লিখছেন, “চিন্তা করা যায় দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, রাজাকারের বাচ্চা পাকি বীজদের অবস্থা।”
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবি সঠিক নয়। পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে র্যালির দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো ভুয়া এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে।
রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে গত ৩ জুলাই প্রকাশিত বিবিসি বাংলার “বাংলাদেশে কালিমা খচিত পতাকা নিয়ে কী হচ্ছে” শিরোনামের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে ব্যবহৃত দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ছবি দুটির র্যালি, মোটরসাইকেল, অংশগ্রহণকারীদের অবস্থান ও পরিবেশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ মোড়ে আসরের নামাজের পর দেড় শতাধিক মুসল্লি কালিমা খচিত কালো ও সাদা পতাকা হাতে জড়ো হন। পরে মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল র্যালি বের হয়। র্যালিতে প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই বা তিনজন আরোহী ছিলেন এবং কয়েকজনের হাতে হ্যান্ডমাইকও দেখা যায়।
এছাড়া, ভাইরাল ছবি দুটি গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল SynthID দিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ছবিগুলো গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার শনাক্তকারী চিহ্ন বহন করছে।
অর্থাৎ, পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে র্যালির দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো প্রকৃতপক্ষে কালিমা খচিত পতাকার র্যালির ছবি। পরবর্তীতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কালিমা খচিত পতাকার পরিবর্তে পাকিস্তানের পতাকা সংযুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে। তাই পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে র্যালির দাবিটি মিথ্যা।