হান্নান মাসুদের ‘২২ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ওয়ালেট’ নিয়ে গোলাম মাওলা রনির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া

M

Mahfuz Hamdan

July 03, 2026 • 09:41 PM

হান্নান মাসুদের ‘২২ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ওয়ালেট’ নিয়ে গোলাম মাওলা রনির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক সংসদ সদস্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গোলাম মাওলা রনি-কে উদ্ধৃত করে একাধিক ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভয়েস বাংলার লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন "এনসিপি নেতা হান্নান মাসুদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ ডলার, অর্থাৎ ২২ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ওয়ালেট।" একই দাবিতে পরবর্তীতে আরও কয়েকটি পেজ ও আইডি থেকে নতুন নতুন ফটোকার্ডও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।


এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে


তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভাইরাল ফটোকার্ডটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে গোলাম মাওলা রনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, "এই ধরনের কোনো কথা আমি বলিনি। ভয়েস বাংলার মালিক সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ফটোকার্ডটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য কথা দিয়েছেন।" অর্থাৎ, ফটোকার্ডে তাঁর নামে প্রচারিত বক্তব্যটি তিনি নিজেই অস্বীকার করেছেন।


পরবর্তীতে অনুসন্ধানে ভয়েস বাংলার ফেসবুক পেজেও সংশ্লিষ্ট ফটোকার্ডটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতে ধারণা করা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ফটোকার্ডটি সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা, সংশোধনী বা দুঃখপ্রকাশমূলক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।


এদিকে, Freedom Bangla News নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও একই দাবিকে ভিত্তি করে আরেকটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, "এনসিপি নেতা হান্নান মাসুদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২২ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ওয়ালেটের স্ক্রিনশট ভাইরাল।" ফটোকার্ডে একটি ট্রেডিং অ্যাপের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়, যেখানে লাল দাগ দিয়ে "Login hannan@gmail(dot)com" লেখা অংশটি দেখানো হয়েছে।


তবে স্ক্রিনশটটি বিশ্লেষণ করে সেটিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বরং প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অ্যাপের অন্যান্য লেখার তুলনায় ইমেইল অংশটির ফন্ট, শার্পনেস, অ্যালাইনমেন্ট ও রেজোলিউশনে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। লেখাটি কৃত্রিমভাবে সংযোজন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যা ডিজিটাল কারসাজির (Edited) ইঙ্গিত দেয়।


এছাড়া, যে প্ল্যাটফর্ম থেকে ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত সংবাদ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি। ফলে শুধু একটি স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে এমন গুরুতর দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।


উল্লেখ্য, বিভিন্ন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ব্যবহারকারী খুব সহজেই কয়েক ক্লিকের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলারের ডেমো (Practice) অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন, যা দেখতে প্রায় বাস্তব (Real) অ্যাকাউন্টের মতোই হয়। তাই কোনো স্ক্রিনশট দেখে সেটি বাস্তব অর্থের অ্যাকাউন্ট বলে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। ভাইরাল স্ক্রিনশটটি কোনো ডেমো অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া হতে পারে, অথবা ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত সাধারণ একটি অ্যাপের স্ক্রিনশটের ওপর নাম ও ইমেইল সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।


পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে হান্নান মাসুদের কথিত ক্রিপ্টো ওয়ালেট বা ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ ডলারের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এমন একটি তথ্য সত্য হলে সেটি দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হওয়ার কথা।


সুতরাং, এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসুদের কথিত ‘২২ কোটি টাকার ক্রিপ্টো ওয়ালেট’ নিয়ে গোলাম মাওলা রনির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া। রনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি এবং ভাইরাল স্ক্রিনশটটিও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়, বরং এটি ডিজিটালভাবে সম্পাদিত হওয়ার শক্তিশালী লক্ষণ রয়েছে।

তথ্যসূত্র (Sources & References)

আরও পড়ুন