সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠ ও Daily Sun-এর আদলে তৈরি দুটি ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, "মুনিয়া হত্যা মামলার আসামি ধর্ষক আনভীর গ্রেফতার"। একইভাবে Daily Sun-এর লোগোযুক্ত অপর একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, "Bashundhara owner Anvir arrested in Munia murder-rape case"।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর গ্রেফতার হয়েছেন, এমন কোনো সংবাদ দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম প্রকাশ করেনি।
ফটোকার্ড দুটিতে ২৯ জুন তারিখ উল্লেখ থাকলেও ওই তারিখে কালের কণ্ঠ বা Daily Sun-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ কিংবা ওয়েবসাইটে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়েও তাদের ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, কালের কণ্ঠ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি সতর্কতামূলক পোস্টে জানিয়েছে যে, তাদের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, Daily Sun-এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে মূল ফটোকার্ডের তুলনায় একাধিক গ্রাফিক্যাল অসংগতি রয়েছে, যা এটিকে সম্পাদিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২৭ এপ্রিল মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। একই বছরের ১৯ জুলাই পুলিশ তদন্ত শেষে আনভীরের নাম বাদ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এনসিপির কিছু কর্মী-সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফটোকার্ড সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, সায়েম সোবহান আনভীর গ্রেফতার হয়েছেন, এমন দাবিতে কালের কণ্ঠ ও Daily Sun-এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ড দুটি সম্পাদিত (এডিটেড) ।