সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নরওয়েজিয়ান ফুটবল তারকা আর্লিং হালান্ডকে নিয়ে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশ করে খাবার খাওয়ার সময় পাশে থাকা আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে আচমকা চমকে ওঠেন তিনি। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই দাবি করছেন, নিজের খাওয়ার দৃশ্য দেখে নিজেই ভয় পেয়ে গেছেন হালান্ড। আবার কেউ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই হাসির ইমোজি দিয়ে ভিডিওটি প্রচার করছেন।
একই ভিডিও সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি বাস্তব নয়; এটি কৃত্রিমভাবে সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে একই ভিডিওর দুটি ভিন্ন সংস্করণ পাওয়া যায়। একটিতে হালান্ডকে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, অন্যটিতে তিনি নরওয়ে জাতীয় দলের জার্সি পরে আছেন। তবে পোশাকের পার্থক্য ছাড়া ভিডিওর বাকি সবকিছু, পেছনের টাইলস, সামনের টেবিল, ট্রে, আয়না, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং পুরো দৃশ্য হুবহু এক।
রিভার্স অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির মূল উৎস টিকটকের কনটেন্ট ক্রিয়েটর Jin Long। তার অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৫ জুন প্রায় ৩১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের মূল ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। মূল ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময় আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে চমকে ওঠেন স্বয়ং Jin Long।
মূল ভিডিওটির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটি তুলনা করে দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে Jin Long-এর মুখ ও পোশাকের পরিবর্তে আর্লিং হালান্ডের মুখ ও জার্সি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এটি বাস্তব কোনো ঘটনার ভিডিও নয়; বরং এআই-ভিত্তিক ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি সম্পাদিত ভিডিও।
অতএব, আর্লিং হালান্ড আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে ভয় পেয়েছেন, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত অন্য এক ব্যক্তির ভিডিওতে এআই ব্যবহার করে হালান্ডের মুখ ও পোশাক সংযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।