সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে নিয়ে আরটিভির ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, "সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হলেন শিশির মনির"। একই সঙ্গে পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন তিনি।
প্রচারিত ফটোকার্ডে দুটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। একটি ছবিতে শিশির মনিরকে একা দেখা যায়। অন্য ছবিতে তাকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা যায়, যেখানে ডা. শফিকুর রহমান তাকে জড়িয়ে ধরে আছেন।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
যাচাই করে দেখা গেছে, ফটোকার্ডে উল্লেখিত ২৭ জুন তারিখে আরটিভি এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। আরটিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যালোচনা করেও এ ধরনের কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে দেশের অন্য কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও শিশির মনিরের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ফটোকার্ডে তারিখ হিসেবে ২৭ জুন ২০২৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে ২০২৬ সালের জুন মাস চলছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের নামে প্রচারিত কোনো ফটোকার্ডে এমন ভুল তারিখ থাকা স্বাভাবিক নয়; এমন ভুল হলে সেটি সংশোধন করারও কথা।
এদিকে অ্যাডভোকেট শিশির মনির নিজেও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফটোকার্ডটি শেয়ার করে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "এটি একটি ভুয়া ফটোকার্ড। অনুগ্রহ করে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।"
ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ডা. শফিকুর রহমান ও শিশির মনিরের আলিঙ্গনের ছবিটিও যাচাই করা হয়েছে। এআই শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Moderation ছবিটিকে ৮৮.৫ শতাংশ সম্ভাবনায় এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত করেছে। পাশাপাশি গুগলের এআই চ্যাটবট Gemini বিশ্লেষণে ছবিটির কিছু অংশ গুগলের এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদিত (AI-generated/AI-edited) হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হাইভ মডারেশনের রেজাল্ট
সুতরাং, অ্যাডভোকেট শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন, এ দাবিতে আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটির কোনো সত্যতা নেই। এটি একটি ভুয়া ফটোকার্ড। একই সঙ্গে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিশির মনির ও ডা. শফিকুর রহমানের যৌথ ছবিটিও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।