সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নামে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। ফটোকার্ডটিতে তাকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, “পদ্মা রেল সেতুর নিচে খনন করে মাটি সরানোর যে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি। ফ্যাসিস্ট পতিত শক্তি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এমন দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন বক্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। এছাড়া প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করেও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে রাকিবের নামে এমন মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলওয়ে সেতুর কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সেতু নির্মাণকাজের সময় একটি জলাধার অস্থায়ীভাবে ভরাট করে সেখানে বালু ফেলে সড়ক তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে জলাশয়টিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে সেতুর নিরাপত্তা বা স্থায়িত্বের কোনো ঝুঁকি নেই।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেলের পিলারের নিচ থেকেও মাটি কাটার দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এ দাবির সঙ্গে মেট্রোরেলের কমলাপুর স্টেশনের নির্মাণকাজের কিছু বাস্তব ছবিী পাশাপাশি এআই-সৃষ্ট কিছু ভুয়া ছবিও প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম এসব বিভ্রান্তিকর ও এআই-নির্ভর কনটেন্ট শনাক্ত করে ভুল প্রমাণ করে।
সুতরাং, পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি সরানোর ভিডিওগুলো ‘এআই দিয়ে তৈরি’ বলে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব মন্তব্য করেছেন এমন দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া। রাকিবুল ইসলাম রাকিব এমন কোনো মন্তব্য করেননি।