সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু নিজের নামেই ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন” দাবিতে একাধিক পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। এসব পোস্টে সূত্র হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান'র জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর'র নামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়।
যাচাইয়ে দেখা যায়, লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে যে বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম, সংসদীয় কার্যবিবরণী কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য সূত্রে বাবরের এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। ফলে তার নামে প্রচারিত বক্তব্যটি বিভ্রান্তিকর বলে প্রতীয়মান হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কয়েকটি পোস্টের স্ক্রিনশট
অন্যদিকে, দাবির সমর্থনে প্রচারিত ডা. শফিকুর রহমানের সংসদীয় বক্তব্য বিশ্লেষণ করেও দেখা যায়, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮২ বা ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ করেননি। গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার মূল বক্তব্যে যাওয়ার আগে মাননীয় সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চমৎকার চমৎকার কিছু কথা বলেছেন, এগুলো একটু স্মরণ করতে চাই। উনি বলেছেন শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার, সে কিভাবে শেয়ারহোল্ডার হয়েছে সেটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন, এটাতো আগেই এক্সপোজ হয়ে গেছে। এই ব্যাংক থেকে উনি একাই নিজের নামে নিয়েছেন ৮২ হাজার কোটি টাকা। আর তার সমুদয় শেয়ার যেগুলো তিনি কিনেছেন, ৮২ শতাংশের মালিক হয়ে গিয়েছেন, এগুলোর মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা।”
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল সম্প্রচারে থাকা বক্তব্যটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তবে উদ্ধৃত অংশে তিনি “উনি” বা “তিনি” সম্বোধন ব্যবহার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা বলেননি; বরং ব্যবসায়ী এস আলমের ঋণ ও শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন। বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এবং আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে স্পষ্ট হয় যে, ৮২ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রসঙ্গটি এস আলমকে কেন্দ্র করেই উত্থাপিত হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নয়।
এছাড়া প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যাংক বা অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ৮২ কিংবা ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ, সরকারি নথি বা গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
অতএব, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু নিজের নামেই ৮৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন” শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, ডা. শফিকুর রহমানের সংসদীয় বক্তব্যকে ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে এ দাবি প্রচার করা হয়েছে এবং লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে প্রচারিত মন্তব্যেরও কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, আলোচিত ঋণের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয়, বরং এস আলমকে কেন্দ্র করেই উত্থাপিত হয়েছিল।