সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, “কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ছাগল চুরি করতে এসে ধরা পড়েছে এক বিএসএফ সদস্য। পরে এলাকাবাসী তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়।” প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিএসএফের পোশাকসদৃশ ইউনিফর্ম পরিহিত এক ব্যক্তির হাত একটি গ্রীলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যকে আটক বা বেঁধে রাখার ঘটনা সম্পর্কে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন একটি ঘটনা বাস্তবে ঘটলে তা দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, গত ৯ জুন দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছিল, যেখানে চুরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। ওই ভিডিওটি শেয়ার করে দৈনিক ইত্তেফাক তাদের ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করেছিল, “এবার চুরি করতে গিয়ে আটক ব্রাজিল সমর্থক”।
ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির অবস্থান ও পেছনের দৃশ্যের সঙ্গে বিএসএফ সদস্য দাবি করে প্রচারিত ছবিটির উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়। উভয় ক্ষেত্রেই গ্রীল, পেছনে ঝুলানো গামছা এবং ব্যবহৃত রশির অবস্থান প্রায় অভিন্ন। ফলে ধারণা করা যায়, আলোচিত ছবিটি ওই ঘটনাকে ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া প্রচারিত ছবির ইউনিফর্মটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি বিএসএফের ব্যবহৃত সরকারি ইউনিফর্মের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পোশাকের নকশা ও বিভিন্ন উপাদানে স্পষ্ট অমিল রয়েছে।
ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ব্যবহৃত এআই কনটেন্ট বিশ্লেষণ টুল Hive Moderation ছবিটিকে ৯০.৮ শতাংশ সম্ভাবনায় ডিপফেক বা এআই-সৃষ্ট কনটেন্ট হিসেবে শনাক্ত করেছে। একইভাবে OpenAI-এর Verify টুল ছবিটিতে SynthID শনাক্ত করে এটিকে “Generated with OpenAI tools” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, “ছাগল চুরি করতে এসে কুড়িগ্রাম সীমান্তে এক বিএসএফ সদস্য আটক” এমন দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, প্রচারিত ছবিটি একটি এআই-জেনারেটেড ছবি এবং দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।