সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, “রামিসার পর এবার রাবেয়া ধর্ষণ”। পোস্টে বলা হয়, ঈদের কেনাকাটা শেষে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাং রাবেয়া নামের এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং পরে তাকে ময়মনসিংহ-গাজীপুর মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। দাবির সঙ্গে একজন কিশোরীর ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে (আর্কাইভ)।
তবে অনুসন্ধানে প্রচারিত দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করে সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহ-গাজীপুর মহাসড়ক এলাকায় দাবিকৃত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোনো সংবাদ বা তথ্য দেশের বিশ্বস্ত গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটির রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে এর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অনুসন্ধানে একটি পুরোনো ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে দাবি করা হয় যে বরগুনার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বজ্রপাতের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, বরগুনায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হলে বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে বুধবার(২৯ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “রামিসার পর এবার রাবেয়া” শিরোনামে যে ধর্ষণের ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে, তার পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি বরগুনায় বজ্রপাতের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিক্ষার্থীর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে ছবিটি ব্যবহার করে কিশোরীকে ধর্ষণের শিকার দাবি করে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।